"শুরুতেই শেষ হয়ে যাওয়া দুঃখ্য বিলাস এক ইতিহাসের নাম টাইটানিক"

টাইটানিক জাহাজের পুরো নাম 'আর এম এস টাইটানিক' অর্থাৎ রয়েল মেল স্টিমার টাইটানিক।প্রস্তুত কারক উত্তর আয়ারল্যান্ডের নামী কোম্পানি 'হারল্যান্ড অ্যান্ড ওলফ'।নির্মাতা সংস্থাটির নাম ছিলো 'হোয়াইট স্টার লাইন'।টাইটানিক তৈরী করতে তখনকার দিনে খরচ হয়েছে ৭৫ লাখ ডলার।টাইটানিক জাহাজ তৈরী শুরু হয় ১৯০৭ সাল থেকে এবং শেষ হয় ১৯১২ সালে বেলফাস্টে।জাহাজটির দৈর্ঘ ছিলো ২৭৫ মিটার।১৯১২ সালের ১০ ই এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্য টাইটানিক প্রথম সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিলো।টাইটানিকের ওজন ছিলো বিশাল যা ৬০ হাজার টন।টাইটানিকের প্রথম কেভিনের ভাড়া ছিলো তখনকার হিসাবে ৩১০০ ডলার,যা আজকের দিনে ১,২৫,০০০ ডলারের সমান।আর ডেক টিকিট অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেনীর ভাড়া ছিলো ৩২ ডলার যা আজকের দিনে হিসাবের প্রায় ১৩৫০ ডলারের কাছাকাছি।টাইটানিকের অপারেটর ছিলো হোয়াইট স্টার নামে একটি ইংগ-মার্কিন সংস্থা।ব্রিটিশ সরকারের বানিজ্য নিরাপত্তা পর্ষদ(রোড অফ ট্রেন্ট সেফটি)টাইটানিকের ছাড়পত্র দিয়েছিলো।চারটে দিন তাদের ভালো কাটলেও চতুর্থ দিন রাত্রে সমস্যাটা হয়।১৯১২ সালের ১৪ ই এপ্রিল ১০ টা ২৩ মিনিটে উত্তর আটলান্টিকের নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে পৌছাতে না পৌছাতে জলের তলায় লুকিয়ে থাকা এক আইসবার্গের সংগে সজরে ধাক্কা লাগে টাইটানিকের।আইসবার্গের অতিরিক্ত আঘাতে অভিশপ্ত টাইটানিকের সলিল সমাধি ঘটেছিলো আটলান্টিক মহাসাগরে ১৪ ই এপ্রিল রাত তখন ১১:৪০ মিনিট।পুরো জাহাজটি ডুবে গিয়েছিলো রাত ২:২০ মিনিটের সময়।মাত্র ২ ঘন্টা ৪০ মিনিটে প্রকৃতির কাছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চুড়ান্ত অসহায়তার প্রতীক হিসাবে টাইটানিক ডুবে যাওয়া।সাথে করে নিয়ে যায় ১৫১৩ তাজা প্রান,তারা আজও ঘুমিয়ে আছে আটলান্টিকের নীল হীমশীতল জলের নিচে। সেই দিনের সেই ট্রাজেডি থেকে বাচানো গিয়েছিলো মাত্র ১৬৮৭ জনকে।কারন সেখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত ছিলো মাত্র ১৬ লাইফবোট।৩২০০ জন যাত্রীদের মধ্যে বাকি ১৫১৩ জন মৃত্যুর কালো অন্ধকারে তলিয়ে যায়।১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যন্তচালিত অনুসন্ধানে যান জলের তলায় ১৩০০০ ফিট গভীরে নেমে খুজে পান টাইটানিকের রাজকীয় অথচ করুন করুন ভগ্নাবশেষ।৪১°৪৬'' উত্তর অক্ষাংশ ৫০°১৪" পশ্চিম দ্রাঘিমার জলের ১৩০০০ ফিট নীচে সমুদ্রের পলিও কাদায় প্রোথিত।