রায়হানের ব্লগ

৭৭৭ চার্লি:আপনি হাসবেন,আপনি ভালোবাসবেন এবং অত:পর আপনি কাদবেন!গত ১০ই জুন মুক্তি পায় কন্নড় সিনেমা ৭৭৭ চার্লি।মুক্তির আগেও সিনেমার ট্রেলার দেখে সিনেমা প্রেমীরা অপেক্ষায় ছিলেন সিনেমাটির মুক্তির।মুক্তির পর পরই অসম্ভব বাজিমাত করে এবং বক্স অফিসে অসাধারণ সফল হয় সিনেমাটি।

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে,ইফ ইউ ওয়ান্ট টু লাভ সামওয়ান টু ফরেভার,বায় আ ডগ,ফিড ইট এন্ড কিপ ইট অ্যারাউন্ড।"যদি তুমি চাও কেউ তুমাকে সারাজীবন ভালোবাসুক তাহলে একটা সারমেয় নাও,তাকে খাওয়াও এবং তুমার পাশে রাখো।

মানুষ এবং প্রানী একে অপরের পরিপূরক।তবে পৃথিবীর সবচাইতে মায়াধর প্রানীদের মধ্যে কুকুর অন্যতম।কুকুর মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু।একাকিত্বকে দূর করতে এবং ডিপ্রেশন কাটিয়ে উটার জন্য কুকুর পালন মানষিক প্রশান্তি দেয়।

৭৭৭ চার্লির শুরুতে শৈশবে ধর্মা তার পরিবারকে একটা রোড এক্সিডেন্টে হারালে ধীরে ধীরে সে একাকিত্বের সাথে জীবন শুরু করে।তার কাছে জীবনের মানে ছিলো সকালে ব্রাশ করে ফেক্টরিতে কাজে যাওয়া এবং দিনশেষে রাতে ফিরে বিয়ারের বোতলের সঙ্গে টেলিভিশন দেখে ঘুমিয়ে পড়া এবং আবার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া।বাইরের জগৎের সাথে তার কোন সখ্য নেই,তার মুখে হাসির কোন ছাপ নেই,যখন তখন যে কারোর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া যার দৈনন্দিন কাজ,যেনো জীবন্ত পাথর এক!



কুকুর পাচারকারীর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ৭৭৭ চার্লি নামের কুকুরটি ধর্মার কলনীতে এসে আশ্রয় নেয়।তারপর ধীরে ধীরে শুরু হয় গল্পের টুইস্ট।গল্পর শুরুটা আপনাকে হাশির মধ্যে দিয়ে কাটাবে,তারপর আপনি কুকুরের সাথে মানুষের ভালোবাসার সম্পর্কের এক জগতে হারিয়ে যাবেন এবং এক পর্যায়ে আপনার চোখের কোন দিয়ে কান্না পড়তে শুরু করবে।



আশা করি সিনেমাটি দেখবেন,সিনেমার গল্পটি আপনাকে আশাহত করবেনাহ,বরংচ আপনি কিছু সময়ের জন্য একটা অন্য জগৎে হারিয়ে যাবেন যেখানে মানুষ ও কুকুরের সম্পর্কের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।


ANIMALS LIVES MATTER-BE KIND TO ANINALS.








 






 ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন আজ ১২ রবিউল আউয়াল। সৌদি আরবের মক্কা নগরে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। বাংলাদেশে দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত।

১২ রবিউল আউয়ালকে অশেষ পুণ্যময় ও আশীর্বাদধন্য দিন হিসেবে বিবেচনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন মহান আল্লাহ।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়তপ্রাপ্তির আগেই ‘আল-আমিন’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর এই খ্যাতি ছিল ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও সত্যবাদিতার ফল। তাঁর মধ্যে সম্মিলন ঘটেছিল সমুদয় মানবীয় সদ্‌গুণের: করুণা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, শান্তিবাদিতা। আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি কর্মময়তাও ছিল তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে বিশ্বমানবতার মুক্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর ব্রত। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়নির্বিশেষে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক গুণাবলির মানুষ হিসেবে তিনি সব কালে, সব দেশেই স্বীকৃত।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীদিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারা দেশে ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ধর্মীয় আলোচনার উদ্বোধন করা হয়।

এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীতে আশেকানে মাইজভান্ডারি অ্যাসোসিয়েশন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারিয়া, নারিন্দা দরবার শরিফ, আহলা দরবার শরিফ, রেজভিয়া দরবার শরিফ ও ইসলামী যুবসেনা পৃথক জশনে জুলুশ বের করবে।





সেদিনও বাংলাদেশ দলের অনুশীলন চলছিল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর। অনুশীলনের আগে মাশরাফি মুর্তজাকে ডেকে নিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। প্রস্তাব দিলেন অধিনায়ক হওয়ার। বৃহস্পতিবার দলের আরেকটি অনুশীলন সেশনের আগে নাজমুল হাসানকে ফোনে মাশরাফি জানালেন, এবার নামাতে চান ভার। মাঝের সময়টুকুতেই এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। যার অন্যতম নির্মাতা অধিনায়ক মাশরাফি।

সাড়ে ৫ বছরের এই সময়টায় মাশরাফির হাত ধরে অনেক স্বপ্ন ধরা দিয়েছে বাস্তব হয়ে। কখনও রচিত হয়েছে রূপকথা। দল ছুটে চলেছে সাফল্যের পথ ধরে। মাশরাফি তার কাণ্ডারি। দেশের ক্রিকেটে ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা। মাশরাফিও পা রেখেছেন জনপ্রিয়তার চূড়ায়। নায়ক থেকে হয়ে উঠেছেন মহানায়ক। অধিনায়ক থেকে হয়েছেন নেতা।
হতাশার আঁধারও কিছু এসেছে এই সময়ে। তবে পেছন ফিরে তাকালে, রঙিন পোশাকে আলো ঝলমলে সময়টুকুর ঔজ্জ্বল্যই যথেষ্ট চোখ ধাঁধিয়ে দিতে। তামিম ইকবাল যেমন বলেছেন, এই দেশের ক্রিকেটের জন্য মাশরাফির অবদান, কখনও কারও ভোলার নয়।


বোর্ড সভাপতির প্রস্তাব পাওয়ার পর শুরুতে দ্বিধান্বিত ছিলেন মাশরাফি। এমনিতেই চোটে জেরবার ছিল ক্যারিয়ার। মাঠের ভেতরের চেয়ে বাইরেই বেশি সময় কাটাতে হয়েছে। নেতৃত্বের আগের অভিজ্ঞতাও ভালো ছিল না চোটের কারণেই। অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ কেন নেবেন! কিন্তু বাবা গোলাম মুর্তজার অনুপ্রেরণায় চ্যালেঞ্জটা নিলেন মাশরাফি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পালাবদলের শুরু সেখানেই!
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভীষণ দুঃসময়ে বোর্ড তাকিয়েছিল তার দিকে। তিনি দেশের ক্রিকেটকে রাঙিয়েছেন সুসময়ের রঙে। সাফল্য বুভুক্ষু ক্রিকেট জাতিকে এনে দিয়েছেন অভাবনীয় সব সাফল্যের স্বাদ।
জিম্বাবুয়েকে ৫-০তে হারানো দিয়ে সাফল্য রথ ছোটার শুরু। দেশের ক্রিকেটের ওই সময়ের অবস্থায় জিম্বাবুয়েকে সব ম্যাচে হারানোর বিশ্বাসও ছিল না। অধিনায়ক মাশরাফি বিশ্বাস ফেরালেন। অধিনায়ক মাশরাফি স্বপ্ন দেখাতে শেখালেন। অধিনায়ক মাশরাফি আকাশ ছোঁয়ার মন্ত্র সতীর্থদের হৃদয়ে গেঁথে দিলেন। অসম্ভবগুলো তখন বাংলাদেশ সম্ভব করা শুরু করল অনায়াস অভিযানে।

অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বাংলাদেশ পা রাখল কোয়ার্টার-ফাইনালের মঞ্চে। সেমি-ফাইনালে যে ভারতের কাছে হারের যন্ত্রণায় দগ্ধ হলো দেশের ক্রিকেট, সেই ভারতকেই দেশের মাটিতে সিরিজ হারিয়ে মিলল উপশমের আনন্দ। ১৬ বছর ধরে যে দলের বিপক্ষে জয় নেই, সেই পাকিস্তানকেই হোয়াইটওয়াশ করে মাশরাফির দল উপহার দিল আনন্দময় বিস্ময়। পরাভূত হলো এমনকি প্রবল পরাক্রমশালী দক্ষিণ আফ্রিকাও!
সে এক জাদুকরী সময়। কিন্তু কোনো জাদুর কাঠি ছিল না মাশরাফির। ছিল ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ক, নিবেদিতপ্রাণ মানসিকতা, দলকে উজ্জীবিত করার অনন্য দক্ষতা, পারিপার্শ্বিকতা ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াইয়ের সামর্থ্য। ক্রিকেট মাঠে তার কৌশল চমকে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। মাঠের বাইরে তার প্রাণশক্তি চাঙা রেখেছে দলকে। মাঠে সেসবের প্রভাব কাজ করেছে জাদুমন্ত্রের মতো।

ড্রেসিং রুম মাতিয়ে রাখতেন তিনি বরাবরই। অনেকে তাকে বলতেন, ড্রেসিং রুমের অক্সিজেন। অধিনায়ক হওয়ার পর হয়ে উঠলেন আরও অনেক কিছু। কখনও ছিলেন ছায়া। আগলে রেখেছেন দলকে। কখনও বর্ম। আড়াল করেছেন সতীর্থদের। যাবতীয় ক্রিকেটীয় সমস্যা তো বটেই, সতীর্থদের জন্য তার কাছে ছিল যেন সব সমস্যার সমাধান। কারও ব্যক্তিগত ঝামেলা, কারও পারিবারিক সমস্যা, নানা বিষয়ে তাদের বিচিত্র সব আবদার, সব মিটিয়েছেন তিনি। কখনও রাত দুপুরে, কখনও কাক ভোরে।
যে কোনো সিরিজ মানেই তার রুম অঘোষিত ক্লাব ঘর। যে ঘরের দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা, দলের সবার অবারিক যাতায়াত। তুমুল আড্ডা, কখনও তাস পেটানো, হাসি-মজার কারখানা যেটি, পারস্পরিক সম্পর্কের মিথস্ত্রিয়া জমে উঠত যেখানে, কখনও প্রতিপক্ষকে বধের ছক কাটা, সব মিলিয়ে অধিনায়কের রুম যেন প্রাণের মেলা!
এভাবেই দলকে করে তুলেছেন এককাট্টা। ক্রিকেটারদের কাছে তার একটিই পরিচয়, ‘ভাই’, সবাই ‘ভাই’ বললেই বুঝে যেতেন কার কথা বলা হচ্ছে। তবে শুধু বড় ভাই নয়, মাশরাফি সতীর্থদের কাছে ছিলেন বড় নির্ভরতা। মাহমুদউল্লাহর ভাষায়, ‘মাশরাফি অসাধারণ মানুষ, তার চেয়েও অসাধারণ অধিনায়ক।”

এভাবেই দল হয়ে উঠেছে পরিবার। পারফরম্যান্সে পড়েছে প্রতিফলন। ২০ ওভারের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধতা জয় করে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনাল, তামিম-সাকিবকে ছাড়া এশিয়া কাপের ফাইনাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জয়, সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে আকর্ষণীয় সব পালক। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চিরস্থায়ী ঠিকানা ছিল ৯ বা ১০, সেখানে বাংলাদেশ ছয় নম্বরে পর্যন্ত উঠে গেছে!
সাফল্যের পথ ধরেই এসেছে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। ক্রিকেট মাঠ বা ক্রিকেটের গণ্ডি ছাপিয়ে তার আবেদন ছুঁয়েছে দেশের সব সীমানা। ক্রিকেটের ক্যানভাস থেকে হয়ে উঠেছেন জীবন ক্যানভাসের নায়ক।


প্রায় মহামানবের রূপ নেওয়া সেই প্রতিচ্ছবি অনেকের কাছে পাল্টে যেতে শুরু করে রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর। কাকতালীয়ভাবে ক্রিকেট মাঠে বিবর্ণ সময়ের শুরু এরপরই। গত বছরের শুরুতে নিউ জিল্যান্ড সফর ভালো যায়নি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে দেশের ক্রিকেটের প্রথম ট্রফি এসেছে তার নেতৃত্বেই। তবে এরপরই এসেছে বিশ্বকাপের হতাশা। আকাশচুম্বি প্রত্যাশা নিয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে দল। চোটের সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে না পেরে তার নিজের পারফরম্যান্সও ছিল বাজে।
অধিনায়কত্ব জীবনের উল্টো ছবি এরপরই দেখতে শুরু করেছেন মাশরাফি। সমালোচনার শূলে চড়ানো হয়েছে তাকে। ক্রিকেট অনুসারী বা সংবাদমাধ্যই শুধু নয়, এমনকি বোর্ড কর্তাদের কথায়ও ছিল প্রচ্ছন্ন অপমান। স্বয়ং বোর্ড সভাপতির কথা নানা সময়ে ছিল বিভ্রান্তিকর। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস কোনো ওয়ানডে ছিল না বাংলাদেশ দলের, মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনার তবু শেষ ছিল না। এই জিম্বাবুয়ে সিরিজও শুরু হয়েছিল অনেক প্রশ্ন ও কৌতূহলকে সঙ্গী করে। সিরিজ শেষের আগে তিনি মেটালেন কৌতূহল।

অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচটি যখন খেলতে নামছেন, তার সামনে অনন্য এক অর্জনের হাতছানি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি জিতলেই হবে অধিনায়ক হিসেবে জয়ের ফিফটি! বাংলাদেশের হয়ে আগের সবচেয়ে বেশি জয় ছিল যে অধিনায়কের, সেই হাবিবুল বাশারকে পেছনে ফেলেছেন অনেক আগেই (২৯ জয়)।
নেতৃত্বগুণ, ব্যক্তিত্ব ও সার্বিক প্রভাবের কারণে অনেক সময়ই আড়ালে পড়ে থাকে তার বোলিং। অথচ অধিনায়কত্বের এই সময়টায় দলের সেরা পারফরমারদের একজন হয়েও ছিলেন বরাবরই। এই দফায় অধিনায়ক হওয়ার পর তিনি দলের দ্বিতীয় সফলতম বোলার (৯৫ উইকেট, এই সময়ে মুস্তাফিজের উইকেট ১০৮টি)।

পরিসংখ্যানে এমন স্বীকৃতি আছে অনেক। রেকর্ড বইয়ে আছে চোখধাঁধানো সব আঁকিবুকি। তবে মাশরাফিকে কী আর কিছু সংখ্যায় বেধে রাখা যায়! বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি পালাবদলের নায়ক। তার হাত ধরেই দেশের ক্রিকেট পৌঁছে গেছে পরের ধাপে। তার ছোঁয়াতেই রচনা হয়েছে সুবর্ণ সময়।
শুক্রবারের ম্যাচ দিয়ে থামছে অধিনায়ক মাশরাফির পথচলা। সামনে দিনগুলোতে হয়তো বোলার মাশরাফির কাছ থেকে মিলবে আরও অনেক কিছু। ভিন্ন ভূমিকায় হয়তো আরও সমৃদ্ধ করবেন দেশের ক্রিকেটকে। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে ছাপ রেখেছেন, যতটা গভীরে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট যতদিন থাকবেন, মাশরাফি বরাবরই থাকবেন নেতৃত্বের শেষ কথা। মাশরাফি থাকবেন ‘ভাই’ হয়ে। থাকবেন নেতার প্রতিশব্দ হয়ে!




যেখানে নেই কোন নেটওয়ার্ক নেই কোন  বিদ্যুৎ কিংবা বাইরের জগতের সাথে ওতোপ্রোতো সম্পর্ক।চারিদিকে পানি মধ্যেখানে ৭-৮ জন স্টুডেন্ট নিয়েই  ভাসমান স্কুলের নাম ওয়ালার পাব্লিক স্কুল।

কেউ এখানে শিক্ষকতা করতে চায় না বলে বছরে অনেক দিনই বন্ধ থাকে এই স্কুল।সদ্য আর'মি থেকে রিজাইন করা কাবির স্যার,হামিদ চাচার অনুরোধের ফলে জয়েন করেন এই স্কুলে।কাশ্মিরের গোলাবারুদের আওয়াজ থেকে অনেক দুরেই এই বুট স্কুলে ৭-৮ জন স্টুডেন্ট নিয়েই শুরু হয় তাঁর দিনযাপন।আর সেখানেই তিনি পান স্কুলের পুরনো শিক্ষিকা ফেরদৌসের রেখে যাওয়া একটি নোটবুক।যে নোটবুক জুড়ে শুধুই আবেগেরা খেলা করছে,গান গাইছে আর নৃত্য করছে।নোটবুকে লিখে রাখা ফেরদৌস টিচারের আবেগভরা লিখা পড়েই মামলিন ফেরদৌসের প্রেমে পড়ে যান কাবির স্যার।
আর তার পরেই নিজের কল্পনায় আকঁতে শুরু করেন নোটবুকের সেই নায়িকাকে।

"উওহ বহুত খুবসুরাত হে,লেকিন মেনে উসে কাবি দেখা হি নেহি।পিয়ার হো গায়া হে মুজে উসে,জিসে মেইন কাবি মিলা হি নেহি।"


ব্যাক্তিগতভাবে ফেরদৌস টিচার আর কাবির স্যারের  কখনো কি দেখা হয়,কাবির স্যারের ভালোবাসা কি পূর্ণতা পায়,এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই মুভিটা দেখতে হবে।

সলমান খান প্রযোজিত মুভিটি 'বুমরোর'সুর আর চিনার পাতার ঝড়ে পড়ার দৃশ্যে রোমান্টিকতার ছুঁয়া ও অসাধারণ গানগুলোও মুভির প্রতি আরো ভালো লাগাবে আপনাকে।দীর্ঘ ১ ঘন্টা ৫২ মিনিট আপনি থাকবেন অন্য এক জগতে যেখানে শুধুই ভালোবাসা আর ভালোলাগা উঁকিঝুঁকি মারবে আপনার মনমন্দিরে।         


টাইটানিক জাহাজের পুরো নাম 'আর এম এস টাইটানিক' অর্থাৎ রয়েল মেল স্টিমার টাইটানিক।প্রস্তুত কারক উত্তর আয়ারল্যান্ডের নামী কোম্পানি 'হারল্যান্ড অ্যান্ড ওলফ'।নির্মাতা সংস্থাটির নাম ছিলো 'হোয়াইট স্টার লাইন'।টাইটানিক তৈরী করতে তখনকার দিনে খরচ হয়েছে ৭৫ লাখ ডলার।টাইটানিক জাহাজ তৈরী শুরু হয় ১৯০৭ সাল থেকে এবং শেষ হয় ১৯১২ সালে বেলফাস্টে।জাহাজটির দৈর্ঘ ছিলো ২৭৫ মিটার।১৯১২ সালের ১০ ই এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্য টাইটানিক প্রথম সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিলো।টাইটানিকের ওজন ছিলো বিশাল যা ৬০ হাজার টন।টাইটানিকের প্রথম কেভিনের ভাড়া ছিলো তখনকার হিসাবে ৩১০০ ডলার,যা আজকের দিনে ১,২৫,০০০ ডলারের সমান।আর ডেক টিকিট অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেনীর ভাড়া ছিলো ৩২ ডলার যা আজকের দিনে হিসাবের প্রায় ১৩৫০ ডলারের কাছাকাছি।টাইটানিকের অপারেটর ছিলো হোয়াইট স্টার নামে একটি ইংগ-মার্কিন সংস্থা।ব্রিটিশ সরকারের বানিজ্য নিরাপত্তা পর্ষদ(রোড অফ ট্রেন্ট সেফটি)টাইটানিকের ছাড়পত্র দিয়েছিলো।চারটে দিন তাদের ভালো কাটলেও চতুর্থ দিন রাত্রে সমস্যাটা হয়।১৯১২ সালের ১৪ ই এপ্রিল ১০ টা ২৩ মিনিটে উত্তর আটলান্টিকের নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে পৌছাতে না পৌছাতে জলের তলায় লুকিয়ে থাকা এক আইসবার্গের সংগে সজরে ধাক্কা লাগে টাইটানিকের।আইসবার্গের অতিরিক্ত আঘাতে অভিশপ্ত টাইটানিকের সলিল সমাধি ঘটেছিলো আটলান্টিক মহাসাগরে ১৪ ই এপ্রিল রাত তখন ১১:৪০ মিনিট।পুরো জাহাজটি ডুবে গিয়েছিলো রাত ২:২০ মিনিটের সময়।মাত্র ২ ঘন্টা ৪০ মিনিটে প্রকৃতির কাছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চুড়ান্ত অসহায়তার প্রতীক হিসাবে টাইটানিক ডুবে যাওয়া।সাথে করে নিয়ে যায় ১৫১৩ তাজা প্রান,তারা আজও ঘুমিয়ে আছে আটলান্টিকের নীল হীমশীতল জলের নিচে। সেই দিনের সেই ট্রাজেডি থেকে বাচানো গিয়েছিলো মাত্র ১৬৮৭ জনকে।কারন সেখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত ছিলো মাত্র ১৬ লাইফবোট।৩২০০ জন যাত্রীদের মধ্যে বাকি ১৫১৩ জন মৃত্যুর কালো অন্ধকারে তলিয়ে যায়।১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যন্তচালিত অনুসন্ধানে যান জলের তলায় ১৩০০০ ফিট গভীরে নেমে খুজে পান টাইটানিকের রাজকীয় অথচ করুন করুন ভগ্নাবশেষ।৪১°৪৬'' উত্তর অক্ষাংশ ৫০°১৪" পশ্চিম দ্রাঘিমার জলের ১৩০০০ ফিট নীচে সমুদ্রের পলিও কাদায় প্রোথিত।